BPDB ও বিদ্যুৎ খাত সংস্কার কৌশলপত্র ২০০০

Exam-Focused Comprehensive Study Guide

BPDB ভিশন, মিশন ও উদ্দেশ্য

ভিশন

সকলের নিকট নিরবচ্ছিন্ন মানসম্মত বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া।

মিশন

টেকসই উন্নয়ন ও গ্রাহকের সন্তুষ্টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিদ্যুতের অব্যাহত প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা।

উদ্দেশ্য

  • বিদ্যুৎ খাতে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়নে নিয়োজিত থাকা।
  • বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্পের টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণ এবং প্রাথমিক ও বিকল্প জ্বালানির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা।
  • বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের কাছ থেকে একক ক্রেতা (Single Buyer) হিসেবে বিদ্যুৎ ক্রয় করা।
  • আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গ্রাহকদের নিকট নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
  • চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দলগত উদ্দীপনা, উদ্ভাবনী শক্তি ও কর্মসংস্কৃতিকে উৎসাহিত করা।
  • কর্মচারীদের ধারণা, মেধা এবং মূল্যবোধকে উৎসাহিত করা।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (BPDB) অর্গানোগ্রাম

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (BPDB) অর্গানোগ্রাম বা সাংগঠনিক কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগুলো নিচে বর্ণনামূলকভাবে তুলে ধরা হলো, যেখানে পদবি এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ term-গুলো ইংরেজিতে রাখা হয়েছে:

General Details (সাধারণ তথ্যাবলি)

  • এই চার্টটি June 2023 সালের organization-এর গঠন কাঠামো নির্দেশ করে।
  • এটিতে Executive Engineer (XEN), Deputy Director (DD) এবং তাদের সমমানের পদমর্যাদা পর্যন্ত position-গুলো দেখানো হয়েছে।
  • প্রতিষ্ঠানটির মোট sanctioned strength বা অনুমোদিত জনবল হলো 18,488 জন

Executive Leadership (উচ্চপদস্থ নেতৃত্ব)

  • BPDB-এর শীর্ষ পদে রয়েছেন একজন Chairman
  • Chairman-এর অফিসকে সরাসরি সহায়তা করার জন্য রয়েছেন একজন Chief Staff Officer (SE) এবং একজন Secretary
  • Chairman-কে সরাসরি রিপোর্ট করার জন্য ৬টি আলাদা "Member" পদ রয়েছে। এগুলো হলো:
    • Member Administration
    • Member Finance
    • Member Distribution
    • Member Planning & Development
    • Member Company Affairs
    • Member Generation

Summary of Key Sanctioned Positions (অনুমোদিত মূল পদগুলোর সারসংক্ষেপ)

প্রজেক্টসহ (Including Projects) অনুমোদিত পদগুলোর সংখ্যা নিচে দেওয়া হলো:

  • Chairman: 1
  • Member: 6
  • Chief Engineer: 25 (সাথে 4)
  • General Manager (G.M) / Additional Chief Engineer: 9 (সাথে 2)
  • Manager / Director (Tech) / SE / DGM: 105 (সাথে 14)
  • Secretary / Director (Non-Tech): 13 (সাথে 1)
  • Additional Director: 13 (সাথে 1)
  • XEN / DD / DS / DM: 341 (সাথে 55)
  • DD (Non-Tech): 114 (সাথে 9)
  • Controller: 1
  • Chief Medical Officer (CMO): 1
  • Senior System Analyst: 1 (সাথে 1)

The present Chairman of the Bangladesh Power Development Board (BPDB) is Engineer Md. Rezaul Karim (প্রকৌশলী মোঃ রেজাউল করিম) (variable information).

Designation: Chairman (Grade-1)

বিতরণ পরিকল্পনা (Distribution Planning)

For the development of distribution system in the urban areas, BPDB takes different Town Distribution Projects. Before taking any Town Distribution Project, a study is conducted to asses different types of works required for the development. Similarly Rural Electrification Board (REB) develops distribution system in the rural areas through different Rural Electrification Program.

The objective of distribution planning is to assure that the growing demand for electricity in terms of increasing growth rate and high load density, can be satisfied in an optimum way.

Distribution planning starts at customer level. The demand, type, load factor and customer load characteristics dictate the type of distribution system required.

The most important considerations for short term planning are:

  • Minimizing the cost of laterals, feeders, sub-transmission systems, substations, equipment required for control and protection and cost of losses while respecting the limits set by permissible voltage values, voltage dips and flicker
  • Maintaining service continuity, reliability and security of the system
  • Taking into account factors like transformer impedance, insulation levels, availability of spare transformers and mobile substations, dispatch of generation and rates that are charged to customers

Distribution lines through a country-side of Bangladesh

For long term planning, the factors that are to be considered are:

  • The timing, location and type of energy demand
  • The duration and frequency of outage of equipment
  • Labor and money
  • Increasing fuel costs
  • Increasing or decreasing prices of alternative energy sources
  • Changing socio-economic conditions
  • Regulations of Federal and State governments

Distribution planning involves various activities like load forecasting (type, location and amount), electrical and mechanical design, economic and other considerations in planning. Automation has also become important in distribution planning.

পরিবেশগত বিবেচনা (Environmental Consideration)

Due consideration is given to the basic environmental requirements of the overall planning methodology of BPDB. Principal considerations are the amount of stack gas and cooling water emissions from thermal plants, and it is ensured that transmission line corridors do not infringe on any known protected areas. However, the non-mechanized farming practices in Bangladesh are generally such that once line construction is completed, active farming resumes directly under the lines, and often between the legs of individual towers. Recognizing also that there is a growing shortage of farmland in Bangladesh, an effort is made to redevelop existing sites wherever possible.

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার - বিদ্যুৎ খাত সংস্কার কৌশলপত্র ২০০০

বিদ্যুৎ বিভাগ
বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়
মে ২০২১ (বাংলা সংস্করণ)

মুখবন্ধ

গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার ১৯৯৬-২০০০ মেয়াদে বিদ্যুৎ খাতের সার্বিক উন্নয়নে যুগান্তকারী পদক্ষেপ গ্রহণ করে। অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎকে একটি অত্যাবশ্যকীয় নিয়ামক হিসেবে বিবেচনা করে, এ খাতের যথাযথ উন্নয়নের জন্য এসময়ে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি এবং এ খাতের সকল উপাদানের সংস্কার ও উন্নয়ন সাধনের মাধ্যমে এর সামগ্রিক কাঠামোগত উন্নয়নের জন্য এসময়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায়, ২০২০ সালের মধ্যে দেশের সকল নাগরিকের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে সংস্কারের সূচনালগ্নে প্রণীত হয় বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার কৌশলপত্র-২০০০। পরবর্তী সময়ে এ কৌশলপত্রের সংস্কার উদ্যোগ ও সরকারের ইতোপূর্বে গৃহীত কর্মপরিকল্পনার বাস্তবায়ন চরমভাবে ব্যাহত হয় এবং বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের গতি অনেকটাই হ্রাস পায়। ২০০৯ সাল থেকে সরকার পুনরায় এ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে।

২০০০ সালে এ কৌশলপত্র গৃহীত হওয়ার প্রাক্কালে দেশের মোট ২০% জনগোষ্ঠী বিদ্যুৎ সুবিধার আওতাভুক্ত ছিল। বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত ক্ষমতা ছিল মাত্র ৩,৬০০ মেগাওয়াট। পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে প্রকৃত বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়ায় ২,৪৫০ মেগাওয়াটে। যার মধ্যে ব্যয়বহুল ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর স্থাপিত ক্ষমতা ছিল ৪৫০ মেগাওয়াট। মাথাপিছু বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ ছিল মাত্র ১১০ কিলোওয়াট ঘণ্টা। এ সংস্কার উদ্যোগ গ্রহণের সময় এদেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিয়োজিত ছিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো), বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) ও অল্প সংখ্যক বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি। সঞ্চালনের দায়িত্বে ছিল বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (পিজিসিবি)। বিতরণ ব্যবস্থার দায়িত্বে ছিল ঢাকার বাইরে বিউবো ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসমূহ এবং শুধু ঢাকার জন্য নিয়োজিত ছিল ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই অথরিটি (ডেসা)ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো)। সে সময় বিদ্যুৎ উৎপাদন ও চাহিদার মধ্যে ব্যাপক পার্থক্য থাকায় লোডশেডিং ছিল নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। উচ্চমাত্রায় সিস্টেম লস, বিশাল অঙ্কের আদায়যোগ্য পাওনা এবং ট্যারিফ কাঠামো বিতরণ সংস্থাগুলোকে অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করে। যা অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রধান অন্তরায় হিসেবে বিবেচিত হয়। বিদ্যুৎ খাতের সামগ্রিক উন্নয়নের প্রধান সীমাবদ্ধতাসমূহের মধ্যে উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য, আর্থিক ও বাণিজ্যিক স্বায়ত্তশাসন এবং পর্যাপ্ত প্রণোদনার অভাব ছিল অন্যতম। উল্লিখিত সীমাবদ্ধতাসমূহকে বিবেচনা করে বিদ্যুৎ খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য নির্ধারণ পূর্বক তা অর্জনে এ কৌশলপত্রের আওতায় উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার খাতভিত্তিক সংস্কারের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। বিদ্যুৎ খাতকে আর্থিকভাবে লাভজনক করে গড়ে তোলা, এখাতের বাণিজ্যিকীকরণ ও দক্ষতা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে প্রতিযোগিতা সৃষ্টির মত সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারমূলক কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হয়। জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জ্বালানির অপচয় রোধসহ নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন করার বিষয়েও এ কৌশলপত্রে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় সংস্কার কৌশল অবলম্বনে দেশে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক কাঠামোগত পরিবর্তন সূচিত হয়েছে। এ কৌশলপত্রকে ভিত্তি ধরে প্রণীত সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার, পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনার লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে সরকার সময়াবদ্ধ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। এ খাতে সংস্কার উদ্যোগের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড থেকে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থাকে পৃথক করে একক সংস্থা হিসেবে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) কে সঞ্চালনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। বিতরণের জন্য বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড এবং বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ছাড়াও কোম্পানি আইন, ১৯৯৪ এর আওতায় গঠন করা হয় ডিপিডিসি, ডেসকো, নেসকো ও ওজোপাডিকো। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নিয়োজিত রয়েছে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও পৃথক ০৬ (ছয়) টি উৎপাদন কোম্পানি এবং কিছু জয়েন্ট ভেঞ্চার কোম্পানি। বিদ্যুৎ খাতে এসব সংস্কার উদ্যোগের পাশাপাশি প্রণয়ন করা হয় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০। নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন ও প্রসার এবং জ্বালানির দক্ষ ব্যবহার নিশ্চিতকরণের অভিলক্ষ্য নিয়ে ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় টেকসই ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (স্রেডা)। বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে গবেষণার সহযোগিতা প্রদানের জন্য সৃষ্টি করা হয় বাংলাদেশ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ গবেষণা কাউন্সিল (বিইপিআরসি)। ক্রমান্বয়ে বিদ্যুৎ শিল্পের সাথে সম্পর্কিত সংস্থাগুলোকে কাঠামোগত নানা সংস্কারে সাধিত হওয়ায় বিদ্যুৎ শিল্পের দক্ষতা ও সেবার মান বহুলাংশে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারের বৃহৎ কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের ফলে ২০ বছর আগে প্রণীত এ কৌশলপত্রের প্রায় সবগুলো লক্ষ্যমাত্রাই এ সময়ে নাগাদ অর্জিত হয়েছে। জাতীয় গ্রিডের সম্প্রসারণের মাধ্যমে বর্তমানে দেশের প্রায় শতভাগ (৯৯%) মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। এ খাতের উন্নয়নে জ্বালানি বহুমুখীকরণের মাধ্যমে গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাশাপাশি কয়লা, তরল জ্বালানি, ডুয়েল-ফুয়েল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও নিউক্লিয়ার এনার্জিভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে গত ১২ বছরে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সংখ্যা ২৭টি হতে ১৪৬ টিতে উন্নীত হয়েছে। বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত ক্ষমতা ক্যাপাটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ প্রায় ২৫,২২৭ মেগাওয়াট। তন্মধ্যে সরকারি খাতে ১০,১৪৬ মেগাওয়াট, বেসরকারি খাতে ৯,৪৭৩ মেগাওয়াট এবং যৌথ অংশীদারিত্বে ১,২৪৪ মেগাওয়াট। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে গিয়ে, সরকার পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির মত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। ফলে বর্তমানে দেশে ১,১৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি হচ্ছে। এ ধরণের বহুমাত্রিক, যুগোপযোগী এবং উদ্ভাবনী উদ্যোগের চর্চার কারণে খুব দ্রুতগতিতে দেশের সর্বত্র বিদ্যুৎ ব্যবস্থার সম্প্রসারণ সম্ভব হয়েছে। দেশে বর্তমানে বিদ্যুৎ গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ৩ কোটি ৯৯ লক্ষ এবং মাথাপিছু বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্যাপাটিভ ও নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ ৫১২ কিলোওয়াট ঘণ্টা। বর্তমানে দেশে চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা বেশি হওয়ায় লোডশেডিং নেই বললেই চলে। দেশে সামগ্রিক বিতরণ সিস্টেম লস ৮.৭৩% এ নেমে এসেছে। ২০০০ সালে প্রণীত এ কৌশলপত্রের সুস্পষ্ট নির্দেশনার আলোকে বিকল্প/নবায়নযোগ্য জ্বালানি ভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দেশব্যাপী প্রায় ৫.৫ মিলিয়ন সোলার হোম সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে। নেট মিটারিংসহ অন্যান্য প্রযুক্তির উদ্ভাবনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও বিতরণ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যুক্ত হয়েছে। বর্তমানে দেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি হতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত ক্ষমতা হাইড্রোসহ প্রায় ৭৩০ মেগাওয়াট

সরকারের দূরদৃষ্টি সম্পন্ন যুগোপযোগী ও উদ্ভাবনী পদক্ষেপ এবং নিরলস পরিশ্রমের ফলে, দেশের বিদ্যুৎ খাত নানান প্রতিবন্ধকতা দূর করে আজ মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। ফলে দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের এক অভূতপূর্ব অগ্রযাত্রা অব্যাহত আছে।

উপদেষ্টামন্ডলী ও সম্পাদকমণ্ডলী

  • উপদেষ্টামন্ডলী: ড. তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী (উপদেষ্টা), জনাব নসরুল হামিদ (প্রতিমন্ত্রী), জনাব মো: হাবিবুর রহমান (সচিব)।
  • বিশেষ কৃতজ্ঞতা: ড. সুলতান আহমেদ (সচিব, অবসরপ্রাপ্ত)।
  • সম্পাদকমণ্ডলী: জনাব আবুল খায়ের মো: আমিনুর রহমান সহ অন্যান্য উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ। সার্বিক সহায়তায়: জনাব মোহাম্মদ হোসাইন (মহাপরিচালক, পাওয়ার সেল)।

১. সূচনা

১.১। অর্থনৈতিক এবং সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিদ্যুৎ একটি অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। জাতীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবার জন্য যৌক্তিক মূল্যে এবং নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ামক। দেশের সকলের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া হলে, মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন হবে এবং দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

১.২। ২০০০ সাল নাগাদ জনগণের বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ বিশ্বের নিচের সারির দেশগুলোর মধ্যে অন্যতম। দেশের মোট জনসংখ্যার ২০ ভাগেরও কম বর্তমানে বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণও অত্যন্ত নগণ্য; বাজারে মাথাপিছু মাত্র ১১০ কিলোওয়াট ঘণ্টা। মাঝে মাঝে তীব্র এবং অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের ঘাটতি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ব্যাহত করেছে- কোন কোন হিসাব মতে দেশের জিডিপির শতকরা একভাগ। এ পরিস্থিতি সংকটজনক, কারণ এভাবে দেশ যে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, তা হয়ত বাংলাদেশে ৬-৭% জিডিপি অর্জনের সীমারেখায় নিয়ে যেতে পারতো, যার সাহায্যে দারিদ্র্য বিমোচনে উল্লেখযোগ্য এবং স্থায়ী প্রভাব ফেলা সম্ভব হতো। তাছাড়া নির্মাণশিল্প ও সেবা খাতে অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের ক্ষেত্রে বিদ্যুতের লভ্যতা গুরুত্বপূর্ণ পূর্বশর্তগুলোর একটি; সমাজ ও মানবজীবনকেও তা ভীষণভাবে প্রভাবিত করে। বিদ্যুৎ চাহিদা গ্রামাঞ্চলে খুব বেশি অনুভূত হয় এবং এ দাবী থেকেই বিদ্যুতের সার্বিক উপকারিতার বিষয়টি বোধগম্য। তাই ২০২০ সালের মধ্যে বাংলাদেশের জনগণের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যমাত্রা সংস্কারের সূচনালগ্নে নির্ধারণ করা এক যথোপযুক্ত জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা। সৌভাগ্যক্রমে বাংলাদেশের গ্যাস সম্পদ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য পরিবেশবান্ধব এবং দক্ষ জ্বালানি। এক্ষেত্রে সে বিষয়টি বিশেষ সুবিধা দেবে।

১.৩। শুরুতে বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং সারা দেশ জুড়ে বিতরণের জন্য সমন্বিত একমাত্র দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা ছিল বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বাবিউবো), যা বিদ্যুতের উৎপাদন থেকে শুরু করে খুচরা বিক্রয় পর্যন্ত প্রতিটি ধাপকে একাই নিয়ন্ত্রণ করত। বিদ্যুৎ খাতের সংস্কারের প্রথম ধাপ হিসেবে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (বাপবিবো) সৃষ্টি করা হয়েছিল, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির (পবিস) মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ নেটওয়ার্কের সম্প্রসারণ এবং উন্নয়নের লক্ষ্যে। বৃহত্তর ঢাকা এলাকায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য ১৯৯০ সালে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই অথরিটি (ডেসা) গঠন করা হয়। তবে কিছু মৌলিক প্রাতিষ্ঠানিক ঘাটতি পূরণ করে ডেসা সৃষ্টি করতে না পারায়, এক্ষেত্রে আশানুরূপ ফল পাওয়া যায়নি। তবে সমস্যার সমাধান না হলেও অন্ততপক্ষে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছিল।

১.৪। বর্তমানে (২০০০ সাল) দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত ক্ষমতা ৩৬০০ মেগাওয়াট। বছরের পর বছর ধরে পুরনো বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ার ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা কমে গিয়ে বর্তমানে ২৯৫০ মেগাওয়াটে এসে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুৎ সরবরাহে ঘাটতির কিছু অংশ পুষিয়ে দিয়েছে ব্যয়বহুল ক্যাপটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো, সর্বসাকুল্যে তাদের স্থাপিত ক্ষমতা ৪৫০ মেগাওয়াট। ২০০০ সালের হিসাবমতে দেশে ৪.৩ মিলিয়ন গ্রাহক বিদ্যুৎ সুবিধা পাচ্ছে, যা ১৯৯৮-৯৯ সালের মোট জনসংখ্যায় ১৬%। বাংলাদেশ সরকার যে উচ্চাকাঙ্ক্ষী পরিকল্পনা নিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করতে হলে, বিদ্যুতায়নের গতি ত্বরান্বিত করার লক্ষ্যে জোরালো কর্মসূচি গ্রহণ করা আবশ্যক। এ পরিপ্রেক্ষিতে, ২০০৫ সাল নাগাদ বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ৬৭০০ মেগাওয়াটে উন্নীত করতে হবে মর্মে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা যায়। বিদ্যুৎ খাতের জন্য আগামী ৫ বছর পুঁজির প্রয়োজন কম হলেও ৫-৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার হবে।

১.৫। এ কৌশলপত্রের উদ্দেশ্য হচ্ছে, কিছু সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি এবং ব্যবস্থার সুপারিশ করা, যা গ্রহণ এবং বাস্তবায়নের মাধ্যমে এ খাতকে আর্থিকভাবে সক্ষম করে তোলার সাথে সাথে এর পুনর্গঠন সাধন করে একে একটি নতুন এবং মজবুত ভিত্তির উপর স্থাপন করা সম্ভব হবে। দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ চাহিদা মেটানোর উদ্দেশ্যে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের যে সম্ভাবনা আছে, সেই লক্ষ্যে এগুলো প্রণয়ন করা হবে।


২. সাম্প্রতিক বছরের সংস্কারমূলক কার্যক্রম

সরকারি খাতে সেবার মান উন্নয়নের জন্য অনুকূল এবং সক্ষম পরিস্থিতির সৃষ্টি করা, দীর্ঘমেয়াদে বেসরকারি এবং বহুপাক্ষিক বিনিয়োগ আকর্ষণ নিশ্চিত করা এবং স্বয়ংক্রিয় অর্থায়ন ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রাহকদের যথাযথ মানের সেবা প্রদানের জন্য সরকার বেশ কিছু সংস্কারমূলক কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এ খাতের কর্মসম্পাদনের মান উন্নয়নের জন্য একটি সার্বিক কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে জাতীয় জ্বালানি নীতি প্রণয়ন করা হয়। এ লক্ষ্যে গৃহীত আরো নানা উদ্যোগের মত এ নীতিও বিদ্যুৎ খাতের সংস্কারের বিষয়ে একটি বৃহত্তর আঙ্গিকে দিক নির্দেশনা প্রদান করে, যার মধ্যে অন্যতম হল বিদ্যুৎ শিল্পের বিধিসম্মত এবং কাঠামোগত সংস্কার সাধন। এ সংস্কারমূলক কার্যক্রমগুলোর পরিকল্পনা করা, এদের বাস্তবায়নে সহযোগিতা প্রদান, সমন্বয় সাধন এবং বাস্তবায়ন কার্যক্রম তদারকির জন্য ১৯৯৬ সালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের আওতায় পাওয়ার সেল নামক একটি পৃথক সংস্থা সৃষ্টি করা হয়েছিল।

বিদ্যুৎ শিল্পের প্রতিটি অংশের জন্য সরকার যেসকল সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে তার কয়েকটি নিম্নে উপস্থাপন করা হল:

  • ২.১। বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে প্রতিযোগিতার সূচনা, বিদেশি বেসরকারি বিনিয়োগ আনয়ন এবং সর্বোপরি তীব্র সংকট কাটিয়ে বিদ্যুতের সরবরাহ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৯৯৬ সালে প্রাইভেট সেক্টর পাওয়ার জেনারেশন পলিসি প্রণয়ন করা হয়। এ নীতি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে দলিলাদি প্রস্তুত করা হয়, যেখানে পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিভিন্ন বিষয়াদির উল্লেখ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রতিযোগিতামূলক দর প্রক্রিয়ার মাধ্যমে মোট ১১৫৮ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং এদের মধ্যে কিছু প্রকল্পের ট্যারিফ বিশ্বের মধ্যে সর্বনিম্ন। এছাড়াও বেসরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে বাস্তবায়িতব্য ১০৪০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রকল্পের জন্য দর কষাকষি চলছে।
  • ২.২। বিশেষ করে গ্রিড সংযোগ নেই এমন এলাকা এবং বিদ্যুৎ ঘাটতি থাকে এমন প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে বিদ্যুৎ সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে, বেসরকারি খাতে ক্ষুদ্রমাত্রায় বিদ্যুৎ উৎপাদনকে উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে গ্রহণযোগ্য ক্যাপাটিভ বিদ্যুৎ কেন্দ্র হতে উৎপন্ন উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ নিকটতম এলাকার গ্রাহকদের কাছে বিক্রয়ের জন্য নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে। বেসরকারি খাতে বাস্তবায়নের জন্য নির্ধারিত ১০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন ৩টি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য বাবিউবো/পবিসের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে।
  • ২.৩। প্রাথমিকভাবে ৭০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি যৌথ উদ্যোগের বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়নের কাজ চলছে যার মালিকানায় রয়েছে বাবিউবো, পবিস এবং বেসরকারি খাত।
  • ২.৪। আশুগঞ্জে অবস্থিত সরকারি মালিকানাধীন প্রধান বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর মধ্যে একটিকে (৭২৪ মেগাওয়াট) কর্পোরেশনে রূপান্তরিত করার বিষয়ে এবং হরিপুরে অবস্থিত কয়েকটি বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে (৯৯ মেগাওয়াট) প্রফিট সেন্টারে (Profit Center) রূপান্তরের বিষয়ে সম্প্রতি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এ পদক্ষেপগুলোর ফলে এই বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ব্যবস্থা অন্যান্য অপারেশন থেকে পৃথক হয়ে যাবে এবং স্বায়ত্তশাসন, প্রণোদনা এবং প্রতিযোগিতার মাধ্যমে মনোনয়নের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এ লক্ষ্যে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা করা হয় এবং ধাপে ধাপে কোম্পানিটি কাজ শুরু করে। অন্যান্য সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানির সাথে এর পার্থক্য হচ্ছে একে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর আওতায় প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে; চাকুরিতে নিয়োগ এবং চাকুরি হতে বরখাস্তে ক্ষমতাসম্পন্ন এর নিয়োগবিধি এবং বেতন সুবিধাদি বেসরকারি খাতের কোম্পানির সাথে বেশি সাদৃশ্যপূর্ণ। সরকারি কন্ট্রোলের অভ্যন্তরে নেওয়া এ ধরনের উদ্যোগ এই প্রথম এবং এর দ্বারা একটি সংস্কার একচেটিয়া কর্তৃত্ব থাকলেও, মূলত উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুৎ শিল্পের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনাকে সহজসাধ্য করা এবং বিদ্যুৎ খাতে বিশেষ করে বেসরকারি পুঁজির প্রবাহকে আকর্ষণীয় এবং সুসংহত করা।
  • ২.৫। কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর আওতায়, ১৯৯৬ সালে ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (ডেসকো) নামক একটি সরকারি মালিকানাধীন বিতরণ সংস্থা সৃষ্টি করা হয়। মিরপুর এলাকার ডেসার অধিকারে থাকা বিদ্যুৎ বিতরণ সংক্রান্ত পরিসম্পদ প্রায় এক বছর আগে (১৯৯৮ সালে) ডেসকোর অনুকূলে হস্তান্তর করা হয়েছে। ডেসকোর মূল্যায়ন শেষে এর সংস্কারের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ করণীয় কর্মসূচি প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা যাবে।
  • ২.৬। সকল অংশীদারের জন্য একটি সুষম প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি এবং তাদের অংশগ্রহণের জন্য মৌলনীতি নির্ধারণের লক্ষ্যে পুরনো আইন ও বিধিমালার প্রতিস্থাপক হিসেবে একটি খসড়া আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। যার ওপর ভিত্তি করে একটি নিয়ামককারী প্রতিষ্ঠান স্থাপন করা যায়। এ খসড়া আমাদের আইনী কাঠামোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ এবং দেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটের সাথে সঙ্গতিপূর্ণ করা হয়েছে। সরকার ইতোমধ্যে এ খসড়ায় নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে এবং আশা করা যাচ্ছে শীঘ্রই আইনসভায় এর বিল পাস হয়ে যাবে।

৩। বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান (২০০০ সাল) ব্যবস্থাপনা

বিদ্যুৎ খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলো নিম্নরূপ:

  • ৩.১। উৎপাদন: (১) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (২) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (৩) বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি
  • ৩.২। সঞ্চালন: (১) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (২) পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড
  • ৩.৩। বিতরণ: (১) বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (২) ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই অথরিটি (৩) ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (৪) বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের আওতাধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসমূহ

৪। প্রধান সীমাবদ্ধতাসমূহ

যে প্রধান সীমাবদ্ধতাগুলোর কারণে মূলত বিদ্যুৎ খাতের কর্মসম্পাদন ব্যাহত, তা হচ্ছে:

  • ৪.১। বিদ্যুৎ খাতের উন্নয়নের জন্য যে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিনিয়োগ করা দরকার তা সম্পদের তীব্র সংকটের কারণে জাতীয় বাজেট থেকে নির্বাহ করা সম্ভব হয় না;
  • ৪.২। উচ্চমাত্রায় সিস্টেম লস, বিশাল অঙ্কের আদায়যোগ্য পাওনা এবং ট্যারিফ (হার এবং কাঠামো) বিতরণ সংস্থাগুলোকে আর্থিকভাবে লাভজনক প্রতিষ্ঠান হতে এবং অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বাধা সৃষ্টি করছে;
  • ৪.৩। সুনির্দিষ্ট প্রাতিষ্ঠানিক লক্ষ্য, আর্থিক ও বাণিজ্যিক স্বায়ত্তশাসন এবং পর্যাপ্ত প্রণোদনার অভাব রয়েছে;
  • ৪.৪। বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণের দায়িত্বশীলদের মধ্যে সুস্পষ্ট বিভাজন না থাকায় খাতভিত্তিক সংশোধনমূলক কার্যক্রম গ্রহণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে;
  • ৪.৫। বিদ্যুৎ কেন্দ্রভিত্তিক ব্যয় ও সম্পদের হিসাব বিবরণী প্রকাশ হচ্ছে না। উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ অংশের পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা যাচ্ছে না।

৫। সরকারের ভিশন ও ৫.২। বিদ্যুৎ খাতের সংস্কার

৫.১। বিদ্যুৎ খাতের জন্য দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য: (ক) সবার কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া (খ) বিদ্যুতের নির্ভরযোগ্য এবং মানসম্পন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা (গ) যৌক্তিক মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা

৫.২.১। লক্ষ্যসমূহ:

  • ২০২০ সালের মধ্যে সারা দেশকে বিদ্যুৎ সংযোগের আওতাভুক্ত করা;
  • বিদ্যুৎ খাতকে আর্থিকভাবে লাভজনক করে গড়ে তোলা; দক্ষতা বৃদ্ধি করা; বিদ্যুৎ খাতের বাণিজ্যিকীকরণ;
  • বিদ্যুৎ সরবরাহের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো এবং মান উন্নয়ন করা;
  • বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে প্রাথমিক জ্বালানি হিসেবে প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহার করা এবং বিদ্যুৎ রপ্তানির সম্ভাবনা যাচাই করে দেখা;
  • বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি করা; সর্বনিম্ন মূল্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের উপায় অবলম্বন করে বিদ্যুতের যৌক্তিক মূল্য নিশ্চিত করা;
  • বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে প্রতিযোগিতার সূচনা করা।

৫.২.২ মূল উপাদানসমূহ:

  • পৃথকীকরণ (Unbundling): বিদ্যুৎ উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণ কার্যক্রমকে ভিন্ন ভিন্ন সেবা হিসেবে পৃথকীকরণ করা;
  • বিদ্যুৎ খাতে গঠিতব্য সংস্থাগুলোকে কোম্পানি হিসেবে রূপান্তরিত এবং বাণিজ্যিকীকরণ করা;
  • একটি নিয়ামককারী কমিশন প্রতিষ্ঠা করা;
  • বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং বিতরণে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ;
  • উৎপাদনের ব্যয়কে প্রতিফলিত করে এমন ট্যারিফ নির্ধারণ করা; জ্বালানি দক্ষতা বৃদ্ধি এবং সাশ্রয়ী ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জ্বালানির অপচয় রোধ করা;
  • বিকল্প/নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়ন করা।

৫.৩। সংস্কার কৌশল

ভবিষ্যতের জন্য প্রণয়ন করা সংস্কার কৌশল মূলত নির্দেশিত হবে গৃহীত কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা, চলমান উদ্যোগের মূল্যায়ন এবং আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপট ও দেশের শাসন ব্যবস্থার প্রেক্ষিতে।

৫.৩.১। উৎপাদন: বিদ্যমান বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রগুলোর দক্ষতা এবং পরিচালনার মান উন্নয়নের পদক্ষেপ গ্রহণের সাথে সাথে সরকারি এবং বেসরকারি খাতে উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি করা।

  • ৫.৩.১.১। বিদ্যমান উৎপাদন: (ক) কর্পোরেশনে রূপান্তরিত একটি জাতীয় বিদ্যুৎ উৎপাদন সংস্থার অধীনে বিদ্যমান সকল বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রকে পৃথক করে দেওয়া হলে, বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতকে বাণিজ্যিক আঙ্গিকে পুনর্গঠনের পথ প্রশস্ত হবে। (খ) বর্তমানে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং সরকারি খাতে ভবিষ্যতে নির্মাণ করা হবে এমন সকল বিদ্যুৎ কেন্দ্রকে স্বতন্ত্র প্রফিট সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। (গ) প্রফিট সেন্টার এবং বাণিজ্যিকীকরণ করা সংস্থাগুলোর মূল্যায়নের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে সংস্কারমূলক পদক্ষেপের সম্প্রসারণ, বর্ধিতকরণ এবং পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হবে।
  • ৫.৩.১.২। নতুন উৎপাদন: নতুন বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প এমনভাবে নির্বাচন করা হবে যেন সর্বনিম্ন খরচে বিদ্যুৎ উৎপাদন এবং সরবরাহের নিশ্চয়তা বিধান করা যায়। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষমতা বৃদ্ধি মূলত লিস্ট কস্ট এক্সপানশন (Least Cost Expansion) নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে করতে হবে; এর জন্য সবচেয়ে জরুরি একটি মাস্টার প্ল্যান। বঙ্গবন্ধু সেতুর সাহায্যে যমুনা নদীর ওপারে গ্যাস পরিবহন করে নিয়ে যাওয়ার প্রকল্প এই উদ্যোগের একটি মাইলফলক।

৫.৩.২। সঞ্চালন: সরকারি মালিকানাধীন কোম্পানিতে রূপান্তরিত একটি সংস্থা সঞ্চালন নেটওয়ার্কের একক দায়িত্বে থাকবে এবং এই খাতের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন সম্পাদন করবে।

৫.৩.৩। একক ক্রেতা (Single Buyer Model): বিদ্যুৎ খাতের ভবিষ্যৎ কাঠামোর মূল বৈশিষ্ট্যগুলোর বিষয়ে সকলেই একমত। একটি একক ক্রেতা মডেল এক্ষেত্রে অনুসরণ করা যেতে পারে, যে ক্রেতা ইকোনমিক লোড ডিসপ্যাচের ভিত্তিতে জেনারেটর থেকে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ কিনবে এবং বিভিন্ন বিতরণ কোম্পানির নিকট বিক্রয় করবে। শুরুতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (BPDB) একক ক্রেতা হিসেবে কাজ করবে।

৫.৩.৪। বিতরণ: সিস্টেম লসকে কমানোর উদ্দেশ্যে দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর বাণিজ্যিক এবং আর্থিক উন্নয়ন সাধন। এ কর্মপরিকল্পনার আলোকে বিদ্যুৎ বিতরণ শক্তিশালীকরণের জন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো বিবেচনা করা হচ্ছে:

  • (ক) সিটিজেন/ক্লায়েন্ট চার্টার প্রবর্তনের মাধ্যমে গ্রাহকের মতামত গ্রহণের এবং প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহিতার সুযোগ সৃষ্টি করা;
  • (খ) বাবিউবো এবং ডেসার বিদ্যমান কাঠামো ভেঙে কোম্পানি আইন, ১৯৯৪-এর আওতায় নতুন কোম্পানি সৃষ্টি করা;
  • (গ) বিতরণ কোম্পানিতে বেসরকারি বিনিয়োগ এবং বিতরণ কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণের সুযোগ সৃষ্টি করা;
  • (ঘ) বাপবিবোর সার্বিক তত্ত্বাবধান, সমন্বয়, সহযোগিতা এবং তদারকির দ্বারা পরিচালিত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিসমূহ পূর্ববৎ কাজ করতে থাকবে;
  • (ঙ) ইন্টারনেট নেটওয়ার্কসহ রিমোট রিডিং, মনিটরিং এন্ড কন্ট্রোলের মত অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা।

৫.৩.৫। বাণিজ্যিক সম্পর্ক: বিদ্যুতের উৎপাদন, সঞ্চালন এবং বিতরণের পৃথকীকরণ সূচিত হলে বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থাপিত হবে।


৬। কর্মকর্তা সংক্রান্ত বিষয়াদি

  • ৬.১। সংস্কার কার্যক্রমের সফল বাস্তবায়ন এবং বিদ্যুৎ খাতের পুনর্গঠনের লক্ষ্যে এ খাতের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের যে সকল সমস্যা রয়েছে, তা সঠিকভাবে আমলে নিয়ে, সমাধানের লক্ষ্যে কাজ করা উচিত মর্মে সরকার স্বীকার করে।
  • ৬.২। সংস্কার কর্মসূচি চলাকালীন, এ খাতের কর্মকর্তা/কর্মচারীদেরও গঠনমূলক আলোচনায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হবে।
  • ৬.৩। সংস্কার প্রক্রিয়ার সময় বিদ্যুৎ খাতের কর্মকর্তা/কর্মচারীদের স্বার্থ যেন সংরক্ষণ করা হয়, সে বিষয়ে সরকার নিম্নরূপভাবে নিশ্চয়তা প্রদান করবে: (ক) পুনর্গঠনের পর বেতন এবং অন্যান্য আর্থিক সুবিধাদি পূর্বের বেতন ও আর্থিক সুবিধাদির চেয়ে কোন অংশে কম হবে না; (খ) প্রতি ক্ষেত্রেই কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চাকুরির ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে; (গ) চাকুরি হতে অবসর গ্রহণকালে অর্থ পরিশোধের ক্ষেত্রে পূর্বের সুবিধাদি বিবেচনায় নেওয়া হবে।

৭। ট্যারিফ

ট্যারিফ কাঠামোটি নিম্নলিখিত নিয়ামক দ্বারা নির্দেশিত হবে: (ক) ট্যারিফকে ধীরে ধীরে সমন্বয় করা হবে এবং দক্ষতার সাথে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রতিফলন করতে হবে; (খ) দক্ষতা, সম্পদের মিতব্যয়ী ব্যবহারকে উৎসাহিত করবে; (গ) গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে; (ঘ) বাণিজ্যিক নীতির ভিত্তিতে সম্পাদন করা হবে; (ঙ) একটি জাতীয় পরিকল্পনা; (চ) সময় ভেদে ট্যারিফ (Time of Use Tariff) নির্ধারণ বলবৎ থাকবে, যা পিক আওয়ারে অপচয় কমাবে।

৮। বিদ্যুৎ খাতের নিয়ন্ত্রণ

একটি কার্যকর এবং দায়বদ্ধ নিয়ন্ত্রণকারী ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নির্ধারণ ও বাস্তবায়ন চলতে থাকবে। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সংক্রান্ত আইন এ সময় নাগাদ প্রবর্তন করা হবে। ৮.১। নিয়ন্ত্রণকারী কমিশন বিদ্যুৎ এবং প্রাকৃতিক গ্যাস উভয় খাতের বিধিবিধানকে নিয়ন্ত্রণ করবে। ৮.২। এ নিয়ন্ত্রণকারী কমিশন: (ক) মানসম্পন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, সর্বনিম্ন ব্যয়ে সম্প্রসারণ ও পরিচালন, এবং যৌক্তিক ট্যারিফ নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে গ্রাহকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে; এবং (খ) বিদ্যমান এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের এই খাতকে আকর্ষণীয় করার সুযোগ সৃষ্টি করা।

৯-১০। আর্থিক পুনর্গঠন ও বাস্তবায়ন

পুনর্গঠিত সংস্থাগুলোকে দায়-দেনা মুক্ত অবস্থায় কার্যক্রম শুরু করার সুযোগ দেওয়া যাবে। চলমান পদক্ষেপসমূহকে অন্তর্ভুক্ত করে বিদ্যুৎখাতের সংস্কার এবং পুনর্গঠনের জন্য একটি সংশোধিত এবং হালনাগাদ কর্মসূচি প্রস্তুত করা হবে।

📌 Key Exam Takeaways

  • Vision & Mission: Quality uninterrupted electricity for all & sustainable growth of electricity. BPDB acts as a Single Buyer.
  • Organogram (June 2023): BPDB has 1 Chairman, 6 Members, and a sanctioned strength of 18,488 personnel.
  • Reform Strategy 2000 (Target 2020): Aimed to provide affordable electricity for all by 2020. In 2000, only 20% had access (3,600 MW capacity). By 2021, 99% had access (25,227 MW capacity).
  • Unbundling: Separation of Generation, Transmission, and Distribution into independent entities (e.g., PGCB for transmission, DESCO for distribution).
  • Regulatory Body: Establishment of an independent Energy Regulatory Commission to govern both electricity and natural gas sectors.
  • Employee Security: Reform guarantees that salaries/benefits will not decrease and job continuity is maintained.

BPDB ও বিদ্যুৎ খাত সংস্কার কুইজ